class 9 bengali question paper with solved paper
CLASS 9 – BENGALI
বাংলা প্রশ্নপত্র
WBBSE Exam-Style Practice Paper
সময় : ৩ ঘণ্টা
পূর্ণমান : ৮০
নির্দেশাবলি
- সব প্রশ্নের উত্তর দাও।
- প্রশ্নের নম্বর অনুযায়ী উত্তর লেখো।
- যেখানে বিকল্প দেওয়া আছে, নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও।
বিভাগ – ক : পাঠবোধ
১. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
প্রকৃতি মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। গাছপালা আমাদের শুধু অক্সিজেনই দেয় না, তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বনভূমি বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। কিন্তু মানুষের অসচেতনতার কারণে দিনের পর দিন বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।
(ক) গাছপালা আমাদের কী দেয়? ১
(খ) বনভূমি কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে? ২
(গ) বনভূমি ধ্বংসের ফলে কী কী সমস্যা হতে পারে? ২
(ঘ) অনুচ্ছেদটির একটি উপযুক্ত শিরোনাম দাও। ১
বিভাগ – খ : ব্যাকরণ
২. নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
(ক) বিশেষ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও। ২
(খ) সর্বনাম পদের দুটি উদাহরণ দাও। ২
(গ) বিপরীত শব্দ লেখো: ২
১. সুখ
২. আলো
৩. নিকট
৪. সত্য
(ঘ) সমার্থক শব্দ লেখো: ২
১. জল
২. সূর্য
৩. নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন করো।
(ক) “সে বিদ্যালয়ে যায়।” — বাক্যটিকে অতীতকালে পরিবর্তন করো। ১
(খ) “ছেলেটি খুব ভালো।” — বাক্যটিকে নেতিবাচক করো। ১
(গ) “তুমি কোথায় যাচ্ছ?” — বাক্যটির প্রকৃতি নির্ণয় করো। ১
(ঘ) “রাহুল বই পড়ে।” — বাক্যে কর্তা ও ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো। ১
বিভাগ – গ : সাহিত্য
৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(ক) সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য কী? ২
(খ) কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ২
(গ) গল্পের প্রধান চরিত্র বলতে কী বোঝো? ২
(ঘ) একটি ভালো গল্পের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। ২
৫. নিচের যেকোনো চারটির উত্তর দাও।
প্রতিটি প্রশ্ন : ৩ নম্বর
(ক) চরিত্রচিত্রণ বলতে কী বোঝো?
(খ) কবিতায় ছন্দের গুরুত্ব কী?
(গ) উপমা অলংকার কী?
(ঘ) লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি বলতে কী বোঝো?
(ঙ) গল্প ও কবিতার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
(চ) প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্ব কী?
বিভাগ – ঘ : রচনামূলক প্রশ্ন
৬. নিচের যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
৫ × ২ = ১০
(ক) “পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা” বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখো।
(খ) “সময়ের মূল্য” বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লেখো।
(গ) তোমার বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে—এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখো।
বিভাগ – ঙ : পত্রলিখন
৭. নিচের যেকোনো একটি লেখো।
৫ নম্বর
(ক) অসুস্থতার কারণে তিন দিনের ছুটির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি আবেদনপত্র লেখো।
অথবা
(খ) বন্ধুকে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লেখো।
বিভাগ – চ : সৃজনশীল লেখা
৮. নিচের যেকোনো একটি বিষয়ে লেখো।
১০ নম্বর
(ক) গল্প লেখো:
“একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পাওয়া গেল…”
অথবা
(খ) প্রবন্ধ লেখো:
“বই পড়ার উপকারিতা”
class 9 bengali question paper with solved paper
CLASS 9 – BENGALI
বাংলা প্রশ্নপত্র — Complete Solutions
১. পাঠবোধ
(ক) গাছপালা আমাদের কী দেয়?
গাছপালা আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
(খ) বনভূমি কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে?
বনভূমি বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া গাছপালা পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে।
(গ) বনভূমি ধ্বংসের ফলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
বনভূমি ধ্বংস হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
(ঘ) অনুচ্ছেদটির উপযুক্ত শিরোনাম
“প্রকৃতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা”
২. ব্যাকরণ
(ক) বিশেষ্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, প্রাণী, গুণ, ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
উদাহরণ: রাহুল, কলকাতা, বই, গাছ।
(খ) সর্বনাম পদের দুটি উদাহরণ দাও।
আমি, তুমি।
(গ) বিপরীত শব্দ
১. সুখ — দুঃখ
২. আলো — অন্ধকার
৩. নিকট — দূর
৪. সত্য — মিথ্যা
(ঘ) সমার্থক শব্দ
১. জল — পানি / বারি
২. সূর্য — রবি / আদিত্য
৩. নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন
(ক) “সে বিদ্যালয়ে যায়।” — অতীতকাল
সে বিদ্যালয়ে গেল।
(খ) “ছেলেটি খুব ভালো।” — নেতিবাচক
ছেলেটি মোটেই খারাপ নয়।
(গ) “তুমি কোথায় যাচ্ছ?” — বাক্যের প্রকৃতি
এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য।
(ঘ) “রাহুল বই পড়ে।”
কর্তা: রাহুল
ক্রিয়াপদ: পড়ে
৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর
(ক) সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবন, অনুভূতি, চিন্তা ও অভিজ্ঞতাকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা এবং পাঠকের মনে আনন্দ ও চিন্তার উদ্রেক করা।
(খ) কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রকৃতির বর্ণনা কবিতাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। এর মাধ্যমে কবি নিজের অনুভূতি, কল্পনা ও ভাবনাকে আরও সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
(গ) গল্পের প্রধান চরিত্র বলতে কী বোঝো?
যে চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্পের প্রধান ঘটনা ও কাহিনি গড়ে ওঠে, তাকে প্রধান চরিত্র বলে।
(ঘ) একটি ভালো গল্পের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
একটি ভালো গল্পের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো—
১. আকর্ষণীয় ও সুসংবদ্ধ কাহিনি।
২. জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রচিত্রণ।
৫. সংক্ষিপ্ত রচনামূলক উত্তর
(ক) চরিত্রচিত্রণ বলতে কী বোঝো?
গল্প, উপন্যাস বা নাটকের চরিত্রের স্বভাব, আচরণ, চিন্তা, অনুভূতি ও ব্যক্তিত্বকে সুন্দরভাবে তুলে ধরাকে চরিত্রচিত্রণ বলে। ভালো চরিত্রচিত্রণের মাধ্যমে পাঠক চরিত্রটিকে সহজে বুঝতে পারে।
(খ) কবিতায় ছন্দের গুরুত্ব কী?
ছন্দ কবিতায় গতি, সুর ও মাধুর্য সৃষ্টি করে। এটি কবিতাকে শ্রুতিমধুর ও সহজে স্মরণযোগ্য করে তোলে। কবির অনুভূতি ও ভাব প্রকাশেও ছন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(গ) উপমা অলংকার কী?
যখন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সাদৃশ্য বা তুলনা প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে উপমা অলংকার বলে।
উদাহরণ:
“তার মুখ চাঁদের মতো সুন্দর।”
এখানে মুখের সঙ্গে চাঁদের তুলনা করা হয়েছে।
(ঘ) লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি বলতে কী বোঝো?
কোনো বিষয়, ঘটনা বা চরিত্র সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব চিন্তা, মতামত ও মূল্যায়নকে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি বলা হয়।
(ঙ) গল্প ও কবিতার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
১. গল্প সাধারণত কাহিনি ও ঘটনার মাধ্যমে বিষয় প্রকাশ করে, কিন্তু কবিতা মূলত ছন্দ, ভাষা ও কাব্যিক অনুভূতির মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করে।
২. গল্পে চরিত্র ও ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, আর কবিতায় ভাব, অনুভূতি, চিত্রকল্প ও ভাষার সৌন্দর্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
(চ) প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্ব কী?
মানুষের উচিত গাছপালা রক্ষা করা, অকারণে বন ধ্বংস না করা, জল ও বায়ু দূষণ রোধ করা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।
৬. রচনামূলক প্রশ্ন
(ক) পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা
পরিবেশ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয় ও বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগাতে পারে। গাছ কাটার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পারে। তারা প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে এবং আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে অন্যদের উৎসাহিত করতে পারে।
বিদ্যালয়ে পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। জল ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অল্প বয়স থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাই পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(খ) সময়ের মূল্য
সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অর্থ বা অন্যান্য সম্পদ হারিয়ে গেলে তা আবার অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু একবার চলে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না।
জীবনে সফল হতে হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হয়। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা, খেলাধুলা, বিশ্রাম এবং অন্যান্য কাজের জন্য সময় ভাগ করে নেওয়া উচিত। সময় নষ্ট করার অভ্যাস মানুষের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।
যে ব্যক্তি সময়ের মূল্য বোঝে এবং সময়মতো নিজের কাজ সম্পন্ন করে, সে জীবনে সফল হতে পারে। অন্যদিকে অলসতা ও সময়ের অপচয় মানুষকে পিছিয়ে দেয়।
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সময়ের গুরুত্ব বোঝা এবং প্রতিটি মুহূর্তকে সঠিক কাজে ব্যবহার করা। সময়ের সঠিক ব্যবহারই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
(গ) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রতিবেদন
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
গত সোমবার আমাদের বিদ্যালয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহের সঙ্গে এতে অংশগ্রহণ করে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শেষে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করার অঙ্গীকার করে। কর্মসূচিটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
৭. পত্রলিখন
(ক) ছুটির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র
প্রাপক:
প্রধান শিক্ষক
[বিদ্যালয়ের নাম]
বিষয়: তিন দিনের ছুটির আবেদন।
মহাশয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একজন ছাত্র। অসুস্থতার কারণে আগামী তিন দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারব না।
অতএব, আমাকে তিন দিনের ছুটি মঞ্জুর করার জন্য আপনার কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
আপনার বাধ্য ছাত্র
নাম: __________
শ্রেণি: IX
রোল: __________
তারিখ: __________
অথবা
(খ) বন্ধুকে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যক্তিগত চিঠি
প্রিয় বন্ধু রাহুল,
আশা করি ভালো আছিস। আমিও ভালো আছি। আমাদের পরীক্ষা আর বেশি দেরি নেই। তাই আমি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করে পড়াশোনা করছি।
প্রথমে কঠিন বিষয়গুলি পড়ছি এবং পরে সহজ বিষয়গুলি পুনরায় অনুশীলন করছি। প্রতিদিন আগের পড়া বিষয়ও কিছুটা করে ঝালিয়ে নিচ্ছি। পাশাপাশি পুরোনো প্রশ্নপত্র সমাধান করছি।
তুইও নিয়মিত পড়াশোনা করিস এবং পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের জন্য পড়া জমিয়ে রাখিস না। আশা করি আমরা দুজনেই ভালো ফল করব।
আজ এই পর্যন্ত। তোর বাবা-মাকে আমার প্রণাম জানাবি।
ইতি
তোর বন্ধু
৮. সৃজনশীল লেখা
(ক) গল্প: “একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পাওয়া গেল…”
একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পাওয়া গেল। মানিব্যাগটি তুলে নিয়ে দেখি, তার মধ্যে বেশ কিছু টাকা এবং একটি পরিচয়পত্র রয়েছে।
আমি পরিচয়পত্রটি দেখে বুঝতে পারলাম, মানিব্যাগটির মালিক কাছেই থাকেন। বাড়ি ফিরে বিষয়টি বাবা-মাকে জানালাম। বাবার সঙ্গে নিয়ে পরিচয়পত্রে দেওয়া ঠিকানায় গেলাম।
সেখানে গিয়ে একজন বৃদ্ধ মানুষকে খুব চিন্তিত অবস্থায় দেখতে পেলাম। তিনি জানালেন, তাঁর মানিব্যাগটি হারিয়ে গেছে এবং তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।
আমি মানিব্যাগটি তাঁর হাতে তুলে দিলাম। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং আমাকে আশীর্বাদ করলেন।
সেদিন আমি বুঝতে পারলাম, অন্যের জিনিস নিজের কাছে রেখে দেওয়া কখনোই উচিত নয়। সততা মানুষকে সত্যিকারের আনন্দ দেয়।
নীতি:
সততার ফল সর্বদা আনন্দদায়ক।
অথবা
(খ) প্রবন্ধ: “বই পড়ার উপকারিতা”
বই মানুষের জ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সমাজ সম্পর্কে জানতে পারি।
বই আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটায়। নিয়মিত বই পড়লে ভাষাজ্ঞান ও শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায়ও বই বিশেষভাবে সাহায্য করে।
ভালো বই মানুষের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীবনীমূলক বই থেকে আমরা মহান ব্যক্তিদের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারি। গল্প ও উপন্যাস আমাদের আনন্দ দেয় এবং মানুষের জীবনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখায়।
বর্তমানে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে বই পড়ার অভ্যাস কিছুটা কমে যাচ্ছে। কিন্তু বইয়ের গুরুত্ব কখনো কমে না।
তাই প্রত্যেকের উচিত নিয়মিত ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। বই শুধু জ্ঞান দেয় না, মানুষকে আরও সচেতন ও চিন্তাশীল করে তোলে।